• Cloud: javascript web photo galleryMr.
  • Cloud: javascript web photo galleryMr.

সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস, ধানমন্ডি সার্কেল, ঢাকার ওয়েব সাইট শুভ উদ্বোধন করলেন জনাব মো: তোফাজ্জল হোসেন মিয়া (যুগ্ম-সচিব), জেলা প্রশাসক,ঢাকা।

অর্পিত সম্পত্তি কি?

১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে যেসকল লোক পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে বসবাস করছিল তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি পাকিস্তান সরকার শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৪ সাল থেকে শত্রু সম্পত্তির নতুন নাম দেওয়া হয় অর্পিত সম্পত্তি। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। এ অধ্যাদেশের ৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই তারিখে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ বিধিমালার ১৮২ বিধির (১) উপবিধির (খ) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর একটি আদেশ জারি করেন। এ আদেশে উক্ত বিধিমালার ১৬৯ (৪) বিধির সংজ্ঞানুসারে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত সকল জমি ও তাতে অবস্থিত ভবনসমূহ ও অস্থাবর সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তির উপ-তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে উপ-তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিনিময়, দান, উইল, বন্ধক, ইজারা, দর-ইজারা বা অন্য কোনো প্রকারে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয় এবং এ আদেশের পরিপন্থী যেকোন প্রকার হস্তান্তর অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৬৬ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান শত্রু সম্পত্তি (জমি ও ইমারত) প্রশাসন ও নিষ্পত্তিকরণ আদেশ, ১৯৬৬ জারি করেন। এ আদেশে তত্ত্বাবধায়ক, উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারি তত্ত্বাবধায়কদের অনধিক এক বছর ভিত্তিতে ইজারা প্রদান করে যাবতীয় সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগের পরিচালককে শত্রু সম্পত্তির উপ-তত্ত্বাবধায়ক (জমি ও ইমারত) এবং জেলা প্রশাসকদের সহকারি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং মহকুমা প্রশাসকদেরও সহকারি তত্ত্বাবধায়ক রূপে নিয়োগ করা হয়।
১৯৬৬ সালের ১৪ মার্চ উপ-তত্ত্বাবধায়ক (পরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ, পূর্ব পাকিস্তান) শত্রু সম্পত্তির (জমি ইমারত) দখল গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি লিপিবদ্ধ করে একটি স্মারক জারি করেন। শত্রু সম্পত্তি (জমি ও ইমারত) চিহ্নিতকরণ, দখলগ্রহণ এবং অনধিক এক বছরের জন্য ইজারা প্রদান করার জন্য এ স্মারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো শ্রেণির জমির ইজারা অর্থের হার কি হবে, এক পরিবারকে কত পরিমাণ জমি ইজারা দেওয়া যাবে, শহর ও গ্রাম এলাকায় বসতবাড়ি ইজারা প্রদানের পদ্ধতি কি হবে, হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি কি হবে, এসব বিষয় উক্ত স্মারকে উল্লেখ করা হয়। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো শত্রু সম্পত্তি বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাবে না বলে উক্ত স্মারকে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। শত্রু সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের আলাদা আলাদা হিসাব সংরক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বন্দোবস্তকৃত জমির হিসাব এবং তা থেকে প্রাপ্ত আয় ও ব্যবস্থাপনার ব্যয়-সম্বলিত প্রতিবেদন নিয়মিত প্রেরণ করার জন্যও সহকারি তত্ত্বাবধায়কদের উক্ত স্মারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। শত্রু সম্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত উপ-তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন সময়ে বহু বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা জারি করেন।
১৯৬৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ এবং পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালার কার্যকারিতা ও বৈধতা রহিত হয়ে যায়। পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শত্রু সম্পত্তি (জরুরি বিধানসমূহের ধারাবাহিকতা) অধ্যাদেশ (১৯৬৯ সালের ১নং অধ্যাদেশ) জারি করা হয়। এ অধ্যাদেশ শত্রু সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে আইনের ধারাবাহিকতা প্রয়োগাদেশ ১৯৭১ (The Laws of Continuance Enforcement Order, 1971) অনুসারে শত্রু সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইন বলবৎ থাকে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ২৯ নং আদেশ অনুসারে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্পিত সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের অর্পিত সম্পত্তি বলে পরিগণিত হয়।
১৯৭৪ সালে শত্রু সম্পত্তি আইন (১৯৭৪ সালের ৪৫ নং আইন) পাস করা হয়। পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর ন্যস্ত সকল শত্রু সম্পত্তি এ আইনবলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে অর্পিত হয় এবং শত্রু সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৭৬ সালে এ আইনটি সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে সরকার বরাবর অর্পিত সকল শত্রু সম্পত্তির প্রশাসন, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, হস্তান্তর ইত্যাদি সরকার অথবা সরকার নির্দেশিত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৯৭৭ সালের ২৩ মে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তির (জমি ও ইমারত) ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও বিলিবন্টন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি জারি করা হয়। চার খন্ডে বিভক্ত ৩৮টি অনুচ্ছেদের এ প্রজ্ঞাপনে ভূমি ও বাড়িঘর-সংক্রান্ত যাবতীয় সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, দখল গ্রহণ, ইজারা প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আদেশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মহকুমা প্রশাসকদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থিত অর্পিত সম্পত্তির অনুসন্ধান, দখল গ্রহণ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও ইজারা প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।    বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Kutubpur land office, Kutubpur, Narayanganj. All rights reserved.
Website Developed by Kutubpur land office.